প্রতারক ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড এর শেষ রক্ষা মিশন!!

১০ ডিসেম্বর ২০১১, দেশের প্রায় সব ক'টি পত্রিকায় ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমিন লাখ-লাখ টাকা খরচ করে "সকল মহলের জ্ঞাতার্থে" শীর্ষক একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করেছেন, যা নতুন করে এই প্রতারক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ব্যাপক সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এই বিজ্ঞাপন প্রচারের পেছনের কারণ হলো ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ভয়াবহ গণ-প্রতারণার বিষয়ে দেশের প্রভাবশালী ইংরেজি সাপ্তাহিক ব্লিটজ-এর ধারাবাহিক প্রতিবেদন এবং ৯ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত "ডেসটিনির বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও আইন বহির্ভূত লেনদেনের অনুসন্ধানে নামছে দূদক" শীর্ষক প্রতিবেদন। উক্ত প্রতিবেদনে জানা যায়, সাবেক বানিজ্যমন্ত্রী লে: কো: ফারুক খানের নির্দেশে ডেসটিনি'র অবৈধ কার্যকলাপ খতিয়ে দেখছে বানিজ্য মন্ত্রনালয়, অর্থ মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দুর্নীতি দমন কমিশন। এসব অভিযোগ প্রসংয়ে ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে মোহাম্মদ রফিকুল আমিন দাবি করেন, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো মন্ত্রনালয় বা সংস্থা এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো কৈফিয়ত তলব করেনি।
আসলে, ডেসটিনির অবৈধ কার্যকলাপ এবং গণ-প্রতারণা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় বা সংস্থার কোনো "কৈফিয়ত" তলবের প্রয়োজনই নেই। ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড এবং এর সহযোগী প্রতারণা প্রকল্পগুলোর গণ-প্রতারণার কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো: 
 
১. ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড: ডেসটিনি'র ওয়েব সাইটে দাবি করা হচ্ছে যে, এটি নাকি "FINANCIAL INSTITUTION" বা ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হবার লক্ষে বাংলাদেশ সরকার থেকে ২৩ এপ্রিল ২০০৫ তারিখে নিবন্ধিত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মাসিক ৯ শতাংশ হারে উচ্চ সুদ আদায় করে এই প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্থায়ী আমানতও গ্রহণ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রনালয়ের আইন অনুযায়ী এসব শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অবৈধ ব্যাংক-এর কার্যক্রম সারা দেশে পরিচালার মাধ্যমে পক্ষান্তরে ডেসটিনি কর্তৃপক্ষ দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি চূড়ান্ত অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে। শোনা যায় ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি'র বিরুদ্ধে যাতে কোনো ব্যবস্থা না নেয়া হয় সে লক্ষে চতুর মোহাম্মদ রফিকুল আমিন নাকি অর্থ মন্ত্রনালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক-এর অভ্যন্তরে তাদের নিজস্ব এজেন্ট নিয়োগ করে রেখেছেন। এছাড়াও সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল হারুন আর রশিদ সেক্টর কমান্ডার'স ফোরামের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততার সুযোগে ডেসটিনির পক্ষে নিয়মিত তদ্বির করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি ডেসটিনি'র মালিক মোহাম্মদ রফিকুল আমিন এবং জেনারেল হারুন ব্যাংকের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে "ডেসটিনি ব্যাংক লিমিটেড" নামক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স চেয়েছেন। 
. এই প্রতারক মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি'র অন্যতম প্রকল্প "ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন লিমিটেড" দেশের অন্তত ৪৮ লাখ মানুষের কাছে ভুয়া বৃক্ষ রোপন প্রকল্পের কাল্পনিক গাছ বিক্রি করে ইতিমধ্যেই ৬০-৬৫ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ডেসটিনি'র ওয়েব সাইটেই দাবি করা হয়েছে যে, ইতিমধ্যেই নাকি ৬,২৯৩ একর জমিতে ৯৪ লাখ গাছ রোপন করা হয়ে গেছে এবং ২০১২ সালের মধ্যে নাকি ছয় কোটি গাছ রোপন সম্পন্ন হবে। প্রথমত, ডেসটিনির মালিকানায় ৬,২৯৩ একর জমি নেই এবং বনায়ন বিশেষজ্ঞদের মতে ৯৪ লাখ বৃক্ষ রোপনের জন্য ৬,২৯৩ একর জমি মোটেও যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, এটি একটি ভুয়া প্রকল্প যার মাধ্যমে ডেসটিনি সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে হাজার-হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। চতুর রফিকুল আমিন এই ভুয়া প্রকল্পের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল হারুনকে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সংগৃহীত সিংহভাগ অর্থ ইতিমধ্যেই বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। এই অর্থ পাচারের সাথে জড়িত ডেসটিনি'র কথিত "HIGH OFFICIAL" বা উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বিদেশী নাগরিক NOEL G. CAREY, যার পরিচয় ডেসটিনি'র ওয়েব সাইটে দেয়া আছে "বৈদেশিক পরিচালক" হিসেবে। প্রতি মাসে এই বিদেশী নাগরিককে ডেসটিনি মোটা অংকের মাসয়ারা দিচ্ছে, যার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনই অনুমোদন নেয়া হয়নি। ডেসটিনির এই বৃক্ষ রোপন প্রকল্প মূলত একটি ভয়ংকর গণ-প্রতারণা ফাঁদ, যার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের হাজার-হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। রাজধানী'র মালিবাগ মোড়ে অবস্থিত "হোসাফ টাওয়ার" নামক বহুতল বানিজ্যিক ভবনে ডেসটিনির কয়েক শ "এজেন্ট" মোটা কমিশনের লোভে সাধারণ মানুষের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অস্তিত্বহীন গাছ বিক্রির করছে প্রকাশ্যেই। সঠিক তদন্তে এসব সহজেই প্রমানিত হবে।

৩. ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান "বৈশাখী টেলিভিশন" প্রতি মাসেই স্যাটেলাইট ট্রান্সপন্ডার ভাড়া বাবত সিঙ্গাপুরে ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার পাঠায়, যার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। বৈশাখী টেলিভিশন প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০২ সনে। এ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান ৩৭,৮০,০০০ মার্কিন ডলার বিদেশে পাঠিয়েছে, যার কোনো অনুমোদন নেই। দেশের প্রচলিত আইনে, এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। 

৪. ডেসটিনির আরেক ভুয়া প্রকল্পের নাম "বেস্ট এয়ার", যেটির শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক এই মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানি 

প্রতারক ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড। সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে এটি নাকি দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারী বিমান কোম্পানি। কিন্তু, বাস্তবে ঢাকার বাড্ডা এলাকায় একটি অফিস ছাড়া এটির আর কোনো অস্তিত্বই নেই। বেস্ট এয়ার-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ২৮ ডিসেম্বর থেকেই নাকি তাদের কোম্পানি'র উড়োজাহাজ আকাশে উড়বে। কিন্তু বাস্তবে এসব কেবলই লোক ঠকানোর মিথ্যা প্রচারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। 

৫. ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের মূল অধিকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল আমিন কানাডা'র নাগরিক। এই প্রতিষ্ঠানের অন্য পরিচালকরাও ইতিমধ্যেই মালয়েশিয়া, অস্থ্রেলিয়া, দুবাইসহ বিভিন্ন জায়গায় গোপনে শত-শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সেহব দেশে স্থায়ী বসত গড়ে রাখছেন, যাতে সাধারণ মানুষের হাজার-হাজার কোটি টাকা লোপাট করে তারা গোপনে কেটে পড়তে পারেন। 

৬. ডেসটিনি'র ওয়েব সাইটে www.destiny-2000.com কিছু ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে এটির "সহযোগী কোম্পানি" হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম, ডেসটিনি মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল লিমিটেড, ডেসটিনি লাইফ ইন্সুরেন্সে কোম্পানি লিমিটেড, বন্দিশাহী কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড, ডেসটিনি নিহাজ জুট স্পিনার্স লিমিটেড ইত্যাদি। সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিতেই অস্তিত্ববিহীন এসব প্রতিষ্ঠানের নাম ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ওয়েব সাইটে দেখিয়ে এগুলোর শেয়ার বিক্রি করে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এই প্রতারক চক্র।


এই খবর টি 
www.amarputhia.com থেকে সংগৃহিত 

No comments:

Post a Comment

Coveroo custom phone covers and cases

visitors

free counters