হত্যা-গুম বন্ধ না হলে রাজপথে নামা ছাড়া উপায় নাই : খালেদা

ঢাকা, ডিসেম্বর ১৮ 
(বি ডি নিউজ )- 
গুপ্তহত্যা-গুম এবং বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন বন্ধ না হলে রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। 

রোববার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সিটিটিউশন প্রাঙ্গণে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সরকারের প্রতি এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি। দেশ সঙ্কটে রয়েছে দাবি করে তা থেকে উত্তরণে আন্দোলনে সক্রিয় হতেও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানান খালেদা। 

সকাল থেকে গোলযোগের মধ্যেই দুপুরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন খালেদা। বিজয়ের ৪০ বছর পূর্তিতে মুক্তিযোদ্ধাদের এ সংবর্ধনা দিলো বিএনপি। 

রোববার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগতদের সকালে পুলিশ লাঠিপেটা করে বের করে দেয়। 

এর পর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত বিস্ফোরণ এবং কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরানোর ঘটনা ঘটে। ঢাকায় বিস্ফোরণে এক জন নিহত হয়। সিলেটেও বাসে আগুন দেওয়া হলে পুড়ে মারা যায় এক বাসযাত্রী। 

অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া বলেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের অভ্যর্থনা জানাতে আমাদের নেতা-কর্মীরা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ছিলো। কিন্তু এই বর্বর সরকার তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার এই অনুষ্ঠান বানচাল করতেই এসব করা হয়েছে। তারা পুলিশের ওপর ভর করে আছে। জনগণের কোনো সমর্থন নেই। ” 

বিএনপি গোলযোগের জন্য সরকারকে দায়ী করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন দাবি করেছেন, বিএনপিকর্মীরাই বোমাবাজি ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত। 

সরকারের উদ্দেশে বিরোধী নেতা বলেন, “সরকারকে বলতে চাই, হত্যা-গুম বন্ধ করুন। বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর অত্যাচার বন্ধ করুন। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে দিন। গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দেবেন না। নইলে রাজপথ ছাড়া আমাদের বিকল্প থাকবে না।” 

মহাজোট সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে খালেদা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একদিন দেশ স্বাধীন করার জন্য আপনারা ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধ করেছেন। এবার দেশ রক্ষার জন্য সেই ট্রেনিং কাজে লাগাতে হবে।” 

দেশ এক চরম সংকটে মহাবিপদে রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দেশের আকাশে শুকুনের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। এখন সরকার অস্ত্র, পুলিশ ও দলীয় ক্যাডার নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের বলছি- আপনাদের ট্রেনিং কাজে লাগাতে হবে। আমরা একসঙ্গে এই সরকারকে হটাতে হবে।” 

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সব মুক্তিযোদ্ধাকে পুনর্বাসিত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “তখন আর কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে ভিক্ষা করতে হবে না, রিকশা চালাতে হবে না। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন করব।” 
বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে খালেদা জিয়া মঞ্চে উঠে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের সালাম জানান। উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারাও দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে সালামের জবাব দেন। 

মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর শাহজাহান ওমর বীর উত্তম সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। 
তিনি আরও যে বিষয় উল্লেখ করেন  ঃ
 ১..‘বিএনপিই মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের দল’ 
২. স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার 
৩. টিপাইমুখ বাঁধ 
৪. ‘জিয়াকে নিয়ে ষড়যন্ত্র’ 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সহসভাপতি সাদেক হোসেন খোকা, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, শমসের মবিন চৌধুরী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রেদোয়ান আহমেদ, সেক্টার কমান্ডার এম হামিদুল্লাহ খান, সাবেক প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম মঞ্জু, বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করীমসহ মুক্তিযোদ্ধারা বক্তব্য দেন। 

No comments:

Post a Comment

Coveroo custom phone covers and cases

visitors

free counters