ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৪ অক্টোবর থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য ১০টি বিশেষ ট্রেন চালু করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদের পর ঢাকাগামী যাত্রীদের জন্য পাঁচটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা থাকবে। আজ শনিবার সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট বিক্রি পরিদর্শনকালে রেলের মহাব্যবস্থাপক (ডিজি) আবু তাহের এ কথা বলেন।
আজ সকাল থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। এ টিকিট বিক্রি চলবে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক খায়রুল বশির প্রথম আলো ডটকমকে জানান, সকাল সাতটা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ ২২ অক্টোবরের ও কাল ২৩ অক্টোবরের টিকিট বিক্রি হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ১৫, ১৬ ও ১৭ অক্টোবর বিক্রি হবে ২৪, ২৫ ও ২৬ অক্টোবরের টিকিট।
রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে আবু তাহের বলেন, ভাড়া বেশি হলেও যাত্রীর সংখ্যা কমেনি। তবে যাত্রীদের আরও ভালো সেবা দেওয়া প্রয়োজন। ঈদের দিন সব রেলপথেই ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে কয়েকটি মেইল ট্রেন-সেবা চালু থাকবে। তিন-চার মাসের মধ্যে রেলসেবায় বিশেষ ধরনের চমক আসছে বলেও জানান তিনি।
স্টেশনের প্রবেশমুখে যাত্রীদের জ্ঞাতার্থে টাঙানো তালিকায় দেখা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিদিন বিভিন্ন রুটের মোট ১৩ হাজার ৫৭৭টি টিকিট বিক্রি হবে। এর মধ্যে কাউন্টারে উন্মুক্ত টিকিট পাওয়া যাবে ১১ হাজার ৪৪৩টি। প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত টিকিট কাটা যাবে। এর আগে ঈদুল ফিতরে টিকিট কাটার জন্য নির্ধারিত সময় ছিল সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা।
সরেজমিনে পরিদর্শন ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিকিট বিক্রির সময় এগিয়ে আনায় তাঁরা বেশ খুশি। কারণ সাতটা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ায় সকালে এসেই টিকিট কেটে যাত্রীরা তাঁদের কর্মস্থলে যেতে পারছেন। কিশোরগঞ্জের যাত্রী দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি এগারোসিন্দুর শোভন চেয়ার টিকিট কেটেছি। টিকিট কাটতে কোনো ঝামেলা হয়নি। সকাল সাতটায় এসে ২০ মিনিটের মধ্যেই টিকিট কাটতে পেরেছি।’
তবে বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অভিযোগ দেখা গেছে। দেলওয়ার জানান, ‘এবারের ভাড়া গত ঈদের চেয়ে বেশি। গত ঈদে টিকিট কিনেছিলাম ৮৫ টাকা দিয়ে। এবারে তা কিনতে হয়েছে ১৪০ টাকায়।’
এ ব্যাপারে স্টেশন ব্যবস্থাপক বললেন, ‘২০ বছর ধরে ট্রেনের ভাড়া বাড়েনি। তাই এবার একটু বাড়তেই পারে। এটা খুব স্বাভাবিক। তা ছাড়া ২০ বছরে মানুষের আয়ও অনেক বেড়েছে, তাই ট্রেনের ভাড়াও বেড়েছে।’ তিনি জানান, প্রথম দিন টিকিট কাটতে আসা যাত্রীদের ভিড় তুলনামূলকভাবে কম। তবে কাল থেকে ভিড় বাড়তে পারে। বিশেষ করে শেষ দুই দিনে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়বে।
চট্টগ্রামের এক যাত্রী মামুন জানান, এবার বৃষ্টির পরিমাণ খুব কম, তাই অনেক মানুষ বিকল্প হিসেবে বাসে যাচ্ছে। রাস্তাঘাটের অবস্থাও তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো হওয়ায় টিকিটের চাপ কিছুটা কম। তা ছাড়া এবারে কর্মজীবীদের ছুটিও অনেক কম, নভেম্বরে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা—এসব কারণে অনেকে ঢাকাতেই ঈদ করবেন।
রেলওয়ে পুলিশের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মজিবর রহমান বলেন, ভিড় কম থাকায় এখনো কালোবাজারি বা টিকিট নিয়ে দ্বন্দ্বের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা-খুলনা রেলপথে ২২ অক্টোবরের টিকিট শেষ: ঢাকা-খুলনা রেলপথে চিত্রা এক্সপ্রেস ও সুন্দরবন এক্সপ্রেসের ২২ অক্টোবরের সব টিকিট বিক্রি শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টায়ই শেষ হয়ে গেছে।
টিকিট মাস্টার বরখাস্ত: ঈদের অবিক্রিত টিকিট থাকা সত্ত্বেও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কাছে সেগুলো বিক্রি না করায় টিকিট মাস্টার সমর দাসকে বরখাস্ত করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক আবু তাহের। সমর দাস ৯ নম্বর কাউন্টারে খুলনাগামী চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি করছিলেন। সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে এক যাত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আবু তাহের তাঁকে তাত্ক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করেন।
-------------------------------------------- প্রথম আলো
আজ সকাল থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়। এ টিকিট বিক্রি চলবে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক খায়রুল বশির প্রথম আলো ডটকমকে জানান, সকাল সাতটা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। আজ ২২ অক্টোবরের ও কাল ২৩ অক্টোবরের টিকিট বিক্রি হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ১৫, ১৬ ও ১৭ অক্টোবর বিক্রি হবে ২৪, ২৫ ও ২৬ অক্টোবরের টিকিট।
রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে আবু তাহের বলেন, ভাড়া বেশি হলেও যাত্রীর সংখ্যা কমেনি। তবে যাত্রীদের আরও ভালো সেবা দেওয়া প্রয়োজন। ঈদের দিন সব রেলপথেই ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে কয়েকটি মেইল ট্রেন-সেবা চালু থাকবে। তিন-চার মাসের মধ্যে রেলসেবায় বিশেষ ধরনের চমক আসছে বলেও জানান তিনি।
স্টেশনের প্রবেশমুখে যাত্রীদের জ্ঞাতার্থে টাঙানো তালিকায় দেখা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিদিন বিভিন্ন রুটের মোট ১৩ হাজার ৫৭৭টি টিকিট বিক্রি হবে। এর মধ্যে কাউন্টারে উন্মুক্ত টিকিট পাওয়া যাবে ১১ হাজার ৪৪৩টি। প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত টিকিট কাটা যাবে। এর আগে ঈদুল ফিতরে টিকিট কাটার জন্য নির্ধারিত সময় ছিল সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা।
সরেজমিনে পরিদর্শন ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিকিট বিক্রির সময় এগিয়ে আনায় তাঁরা বেশ খুশি। কারণ সাতটা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ায় সকালে এসেই টিকিট কেটে যাত্রীরা তাঁদের কর্মস্থলে যেতে পারছেন। কিশোরগঞ্জের যাত্রী দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি এগারোসিন্দুর শোভন চেয়ার টিকিট কেটেছি। টিকিট কাটতে কোনো ঝামেলা হয়নি। সকাল সাতটায় এসে ২০ মিনিটের মধ্যেই টিকিট কাটতে পেরেছি।’
তবে বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অভিযোগ দেখা গেছে। দেলওয়ার জানান, ‘এবারের ভাড়া গত ঈদের চেয়ে বেশি। গত ঈদে টিকিট কিনেছিলাম ৮৫ টাকা দিয়ে। এবারে তা কিনতে হয়েছে ১৪০ টাকায়।’
এ ব্যাপারে স্টেশন ব্যবস্থাপক বললেন, ‘২০ বছর ধরে ট্রেনের ভাড়া বাড়েনি। তাই এবার একটু বাড়তেই পারে। এটা খুব স্বাভাবিক। তা ছাড়া ২০ বছরে মানুষের আয়ও অনেক বেড়েছে, তাই ট্রেনের ভাড়াও বেড়েছে।’ তিনি জানান, প্রথম দিন টিকিট কাটতে আসা যাত্রীদের ভিড় তুলনামূলকভাবে কম। তবে কাল থেকে ভিড় বাড়তে পারে। বিশেষ করে শেষ দুই দিনে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়বে।
চট্টগ্রামের এক যাত্রী মামুন জানান, এবার বৃষ্টির পরিমাণ খুব কম, তাই অনেক মানুষ বিকল্প হিসেবে বাসে যাচ্ছে। রাস্তাঘাটের অবস্থাও তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো হওয়ায় টিকিটের চাপ কিছুটা কম। তা ছাড়া এবারে কর্মজীবীদের ছুটিও অনেক কম, নভেম্বরে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা—এসব কারণে অনেকে ঢাকাতেই ঈদ করবেন।
রেলওয়ে পুলিশের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মজিবর রহমান বলেন, ভিড় কম থাকায় এখনো কালোবাজারি বা টিকিট নিয়ে দ্বন্দ্বের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ঢাকা-খুলনা রেলপথে ২২ অক্টোবরের টিকিট শেষ: ঢাকা-খুলনা রেলপথে চিত্রা এক্সপ্রেস ও সুন্দরবন এক্সপ্রেসের ২২ অক্টোবরের সব টিকিট বিক্রি শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টায়ই শেষ হয়ে গেছে।
টিকিট মাস্টার বরখাস্ত: ঈদের অবিক্রিত টিকিট থাকা সত্ত্বেও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কাছে সেগুলো বিক্রি না করায় টিকিট মাস্টার সমর দাসকে বরখাস্ত করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক আবু তাহের। সমর দাস ৯ নম্বর কাউন্টারে খুলনাগামী চিত্রা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি করছিলেন। সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে এক যাত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আবু তাহের তাঁকে তাত্ক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করেন।
-------------------------------------------- প্রথম আলো
No comments:
Post a Comment