দ্বিগুণ দামে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কিনতে হবে

নতুন মডেল পিএসসি অনুযায়ী আগের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কিনতে হবে পেট্রোবাংলাকে। এ মাসেই এ সংক্রান্ত টেন্ডার হবে। পিএসসি অনুযায়ী ৮০ ভাগ মালিকানা থাকবে বিদেশি কোম্পানির হাতে। পিএসসিতে গ্যাস রপ্তানির উল্লেখ নেই। এমনকি রপ্তানি নিষিদ্ধও করা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে নতুন মডেল পিএসসি বিদেশি কোম্পানির মুনাফা দেখাতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন মডেল পিএসপি হলো নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করার মতো ঘটনা। এতে নিজের দেশের গ্যাস কিনতে পেট্রোবাংলাকে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ২০০৮ সালের পিএসসি (প্রডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট) একটু ঘষে মেঝে ১১ সেপ্টেম্বর 'মডেল পিএসসি ২০১২' নামে পাস করেছে মন্ত্রিসভা। বেশ কয়েকটি ধারা পরিবর্তন করলেও এবারের পিএসসিতেও বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির পক্ষে কিছু নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পুরনো যেসব ধারার কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল সেসব ধারা রয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, পিএসসি ২০১২ প্রধান সমস্যা হচ্ছে গ্যাসের দাম যেভাবে বাড়ানো হয়েছে তাতে গ্যাস বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হবে। আমাদের স্থলভাগের গ্যাস যেভাবে পাওয়া যাচ্ছে এবং উত্তোলন প্রক্রিয়া চলছে তার মধ্যে কনোকো-ফিলিপসের হাতে বঙ্গোপসাগরের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লক থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হলে চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন করতে হবে এবং রপ্তানি অনিবার্য হয়ে দাঁড়াবে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মুনসুর বলেন, বাংলাদেশে গ্যাসের দাম পৃথিবীর সব থেকে কম। আন্তর্জাতিক কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে লাভের জন্য। আন্তর্জাতিক বাজারে গত বছরগুলোর তুলনায় জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। মূল্য ঠিকমতো না দিলে বাংলাদেশে কোনো কোম্পানি আসবে না।

জানা যায়, নতুন পিএসসির আওতায় আগামী মাসেই সমুদ্রের ১২টি ব্লকে দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে পেট্রোবাংলা। যেসব ধারায় পিএসসির সংশোধন আনা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যাসের মূল্যনির্ধারণ করা। অগভীর সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত গ্যাস প্রতি হাজার ঘনফুট ৪ দশমিক ১৫৭ ডলার এবং গভীর সমুদ্রের ৪ দশমিক ৫৭৩ ডলারে কিনবে পেট্রোবাংলা। এ কারণে আগের থেকে দ্বিগুণ দামে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কিনতে হবে পেট্রোবাংলাকে। বর্তমানে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাস ২ দশমিক ৯ ডলারে বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে কিনছে পেট্রোবাংলা। ২০০৮ সালের পিএসসি অনুসারে বিদেশি কোম্পানিগুলো তেল গ্যাস অনুসন্ধানে যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে সেটা মোট গ্যাসের ৫৫ ভাগের বিনিময়ে 'কস্ট রিকভারি' হিসেবে সমন্বয়ের সুযোগ পেত। বাকি গ্যাস ভাগাভাগি হতো বাংলাদেশ ও বিদেশি কোম্পানির মধ্যে। নতুন পিএসসিতেও সেই ধারাই বিদ্যমান আছে। ফলে বাংলাদেশ কখনোই মোট গ্যাসের ২০ শতাংশের বেশি গ্যাসের দাবি করতে পারবে না। বিদেশি কোম্পানিগুলোর উত্তোলন ব্যয় বা কস্ট রিকভারি খনিতে গ্যাস থাকা পর্যন্ত কখনো শেষ হয় না। বিদেশি কোম্পানি নানা টালবাহানায় প্রতি মাসেই পেট্রোবাংলাকে মোটা অঙ্কের উত্তোলন বিল ধরিয়ে দেয়।

No comments:

Post a Comment

Coveroo custom phone covers and cases

visitors

free counters